শুরুর কথা




যুক্তিই মুক্তি লাইসিয়াম গণিত ও বিজ্ঞান সংঘের কথা। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি ও প্রথম আলো পত্রিকার সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় গণিত অলিম্পিয়াড হচ্ছিল বেশ ক’বছর ধরেই। আমাদেরও ইচ্ছা ছিল আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীরা এই সমস্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করুক। আমরা বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষকদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করি কিন্তু তারা আমাদের অনুৎসাহিত করে। ২০০৯ সালের স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে পরিচয় ঘটে সাজেদুল করিম স্বপনের সাথে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সে। কথাচ্ছলে জানতে পারি, ও গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাথে যুক্ত। মনে মনে বলি তোমাকেই খুঁজছি আমি। একেতো নাচুনে বুড়ি তার উপর ঢোলের বাড়ি। অনুরোধ করতেই রাজি হয়ে যায় স্বপন। পরের দিন থেকেই সে লেগে যায় কর্মশালা করতে। প্রথমেই আসে আমাদের গ্রামে অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরের দিন আমি চলে আসি ঢাকায়, আমার ক্যাম্পাসে। দু’দিন পর আমাকে আবার গ্রামে যেতে হয় এক কাজে। দেখি স্বপন এসে হাজির। সাথে আরেক পা-ব মামুন। ওর ক্যাম্পাসের ছোট ভাই। ‘চলেন নলিন যেতে হবে। বক্কর (আবু বক্কর সিদ্দিক) স্যারের সাথে কথা হয়েছে’। অমনিই দে ছুট। মামুন আর স্বপন পালাক্রমে বলছে। আর আমি গিলছি। একে একে ভূঞাপুরের প্রায় সবকটা বিদ্যালয়ে কর্মশালা পরিচালনা করে ওরা। আমাদের সাথে আরো যোগ দেয় অসীম, রানাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া এলাকার শিক্ষার্থীরা। সবাই মিলে পরিকল্পনা করি একটা গণিত ক্লাব দিতে। আপাতত একটা নামও ঠিক করা হয় “ভূঞাপুর গণিত সংঘ”। সিদ্ধান্ত হয় আগামী গ্রীষ্মের ছুটিতে একটা গণিত অলিম্পিয়াডের আায়োজন করব। যোগাযোগ করা হয় প্রথম আলোর নবী ভাইয়ের সঙ্গে। তারাও আমাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।স্পনসর হন এম.এস.ডির সোহেল ভাই। আর সাংগঠনিক সকল কাজে সহযোগিতা করেন অর্জুনা অন্বেষা পাঠাগারের একদল কর্মীবাহিনী। ভেন্যু ঠিক করা, স্কুলে স্কুলে চিঠি পৌঁছে দেওয়া,খাতা দেখা, রেজাল্ট শিট তৈরি করা ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ করেছে তারা। নির্দিষ্ট তারিখে শুরু হয় গণিত অলিম্পিয়াড।ঢাকা থেকে আসেন সুব্রত দেবনাথ, সৌমিত্র চক্রবর্ত্তী আর কামরুল। সে দিনটা ছিল আমাদের জন্য গণিতে গণিতময়। এ অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে আমরা পেয়ে যাই মৃত্যুঞ্জয়, রাব্বি, মিঠু, প্রসেনজিৎ, নাসির আর আবিরের মতো গণিতপ্রাণ একঝাঁক কর্মী। পরে তাদের নিয়ে গঠিত হয় “ভূঞাপুর গণিত সংঘ”। পরে ডিসেম্বর মাসে অর্জুনা অন্বেষা পাঠাগারের সহযোগিতায় অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় ২য় গণিত অলিম্পিয়াডের। এ অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে আমরা ২২ জন শিক্ষার্থীকে বাছাই করি যারা ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করবে। ঐ অলিম্পিয়াডে আমাদের অবাক করে দিয়ে মৃত্যুঞ্জয় দেবনাথ সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে ৩য় স্থান অধিকার করে জাতীয় অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ করে নেয়। যা ছিল আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। দেবনাথের এ অর্জন অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে তোলে। শিক্ষার্থীদের এ উৎসাহকে উসকে দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিষ্ঠা করি আবদুল্লাহ-আল-মুতিনরবিজ্ঞান গ্রন্থাগার। এ গ্রন্থাগারে রয়েছে বিজ্ঞান ও গণিতের নানা বই। আঞ্চলিকতা পরিহার করে এক বৈশ্বিক নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন আমাদের। আমরা বিশ্বাস করি টলেমি আমাদের, ইউক্লিড আমাদের, নিউটন, আইনস্টাইন, সত্যেন বোস, রাধানাথ আমাদের। এক আখ- আকাশ যেমন সবার তেমনি হাজার বছর ধরে অর্জিত তাবৎ জ্ঞানে অধিকার সবার। তাই সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের স্মৃতিকে ধারণ করে আমরা সংগঠনের নতুন নাম দিই “লাইসিয়াম গণিত ও বিজ্ঞান সংঘ”।